গ্র্যাজুয়েট অব দ্য ইয়ার
কীর্তিমান সাদেক
লেখক ঃ আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ , তারিখ: ১৭-০৮-২০১১
সুত্র ঃ - প্রথম আলো - পড়াশোনা ,২৩ - ০৮ - ২০১১
---------------------------------------------------------------------------------
রাজশাহীর সাদেক ইমাম
লন্ডন থেকে বয়ে আনলেন দেশের জন্য সম্মান
সাদেক ইমাম স্কুলে আসার সময় ব্যাগে ভরে নিয়ে আসতেন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি আর বিজ্ঞানের বই। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে বের করে পড়তেন বিজ্ঞানের বই, আর নাড়াচাড়া করতেন ওই সব যন্ত্রপাতি। এসব দেখে স্কুলের বন্ধুরা তাঁকে ‘বিজ্ঞানী’ বলে ডাকতে শুরু করে। সত্যি সত্যি স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় সাদেক পুরস্কারও পেয়ে যান। রাজশাহী ল্যাবরেটরি স্কুলে পড়ার সময় তাঁর সহপাঠীরা হয়তো ভাবেনি এই সাদেক একদিন সত্যিই বিরাট কিছু করে ফেলবেন।সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটি তাঁকে
‘গ্র্যাজুয়েট অব দ্য ইয়ার’
পুরস্কারে ভূষিত করেছে।
এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পাঁচ বছরের ব্যবসায়িক ও একাডেমিক সাফল্য, দলগত কাজ ও আন্তব্যক্তিক সাফল্য, কারিগরি জ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, বিপণন প্রসার ও দক্ষতায় সর্বাধিক সাফল্য লাভের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিবছর দুজনকে গ্র্যাজুয়েট অব দ্য ইয়ার পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
বাংলাদেশের সাদেক ইমাম এবার পেয়েছেন সেই পুরস্কার।
সাদেক ইমামের বাড়ি রাজশাহী নগরের পদ্মা আবাসিক এলাকায়। তিনি অধ্যাপক আবদুস সোবহান ও অধ্যাপক শামসুন নাহারের সন্তান। তিনি ১৯৯৪ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। একান্ত লক্ষ্য ছিল কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা। সে জন্য অন্য বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও তিনি রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হননি। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকায় ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি নেন।
সাদেক ইমাম জানান, তাঁর লক্ষ্য ছিল, তিনি একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী হবেন এবং শিক্ষকতা করবেন।
এই স্বপ্ন নিয়ে সাদেক ২০০০ সালে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রামে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি এই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং হেড অব আইসিটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরই ফাঁকে তিনি ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ে এমএসসি করেন।
সাদেক জানান, মাস খানেক আগের কথা। তিনি দেশে ফেরার টিকিট সংগ্রহ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। এমন সময় বেডফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটির একটি ই-মেইল বার্তা পেলেন, যাতে তাঁর জীবনের অভাবনীয় এক সাফল্যের সংবাদ রয়েছে। তিনি গ্র্যাজুয়েট অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডের জন্য শর্ট লিস্টেড। অগত্যা দেশে ফেরার সময় এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিলেন। তারপর এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দুরু দুরু বুকে গিয়ে হাজির হন বেডফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটির শতাব্দীপ্রাচীন পুটেরিজবারি কনফারেন্স সেন্টারে।
সাদেক বলেন, সন্ধ্যা সাতটায় প্রোভিসি কার্সটেন ম্যাপেল ঘোষণা করলেন,
‘সাদেক ইমাম, বাংলাদেশ, গ্র্যাজুয়েট অব দ্য ইয়ার’।
দেশের নাম শুনে গর্বে বুকটা ফুলে গেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর লেস এবডন সিবিইর হাত থেকে পুরস্কারের
সাত হাজার ৫০০ পাউন্ড এবং সার্টিফিকেট অব অ্যাচিভমেন্ট
গ্রহণ করেন।
সাদেক বলেন, ‘মা-বাবা দুজনই রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষক হিসেবে অবসর নেন। তাঁদের একান্ত ইচ্ছা ছিল, আমি ম্যাজিস্ট্রেট হব, কিন্তু আমার লক্ষ্য ছিল শিক্ষকতা।’
সাদেক তা-ই করছেন।
সাদেক বলেন,
‘আমাদের স্বপ্ন দেখা শিখতে হবে।
গবেষণার কাজে লাগাতে হবে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, দেশে উচ্চশিক্ষার বা গবেষণার সুযোগ খুবই কম। এ ক্ষেত্রে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনো বিকল্প নেই। আমি মনে করি,
যারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে,
তাদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং জ্ঞান নতুন প্রজন্মের
জানতে হবে এবং নিজস্ব চিন্তাভাবনার বিকাশ
ঘটাতে হবে—তবেই আসবে সাফল্য।
আমার মনে হয়, আইটি সেক্টরে নতুন প্রজন্মের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের উচিত, রাজশাহী, চট্টগ্রামের মতো শহরকে সিলিকন ভ্যালি হিসেবে গড়ে তোলা এবং মাইক্রোসফটের মতো আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া।’
সাদেক ইমাম জানান, ১৫ কোটি মানুষের সব সমস্যার সমাধান রয়েছে ইনফরমেশন এবং কমিউনিকেশন টেকনোলজির সঠিক ব্যবহারের মধ্যে।
তিনি স্বপ্ন দেখেন দেশে একটি আইসিটি
ইউনিভার্সিটির, যা হবে গবেষণা এবং
এন্টারপ্রাইজ-কেন্দ্রিক, যেখানে তৈরি হবে
আলোকিত মানুষ।
( ঈষৎ সংশোধিত )
===================================================================
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন